বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

ঝাড়ুর পাশাপাশি রংতুলি, নতুন কাজে হরিজন নারীরা

সোমা ঘোষ মনিকা
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

ময়মনসিংহের হরিজন পল্লীর নারীদের পরিচিত কর্মজীবনে যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি কাজ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা এখন শাড়ি, থ্রিপিস, ব্লাউজ ও পাঞ্জাবিতে ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও সূচিকর্ম করছেন।

আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাদের তৈরি পোশাক বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘যে হাতে দোলনা দোলে, সে হাতেই বিশ্ব চলে’—এই প্রবাদ নারীর শ্রম ও সক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেয়। ময়মনসিংহের হরিজন সম্প্রদায়ের অনেক নারী দীর্ঘদিন ধরে নগর পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত। ভোর থেকে ঝাড়ু হাতে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা পরিষ্কার করাই তাদের প্রতিদিনের কাজ। সেই হাতেই এখন কাপড়ের ওপর ফুটে উঠছে নানা নকশা।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে আশীর্বাদ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘আশীর্বাদ দলিত নারী শিল্প’। এই কার্যক্রমের আওতায় নারীদের পোশাক তৈরি ও নকশার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কাপড় নির্বাচন, নকশা তৈরি, রং প্রয়োগ, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও সূচিকর্মের কৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের তৈরি পোশাক বাজারজাত করার সুযোগ তৈরির কাজও চলছে।

হরিজন সম্প্রদায়ের অনেক নারী প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেশায় যুক্ত। নগর পরিষ্কার রাখার কাজে তাদের শ্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিকল্প পেশায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ অনেকেরই সীমিত। নতুন এই উদ্যোগে পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সামনে একটি নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
আশীর্বাদ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং ‘আশীর্বাদ দলিত নারী শিল্প’-এর প্রতিষ্ঠাতা শান্তি রামবারি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের পাশাপাশি হরিজন নারীদের সৃজনশীল দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। নিজেদের হাতে পোশাক তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হলে তারা নতুনভাবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, হরিজন নারীদের জন্য আলাদাভাবে কাজ করার চেয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে নিজেদের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা আরও স্বাধীনতা পাবেন।
উদ্যোক্তারা জানান, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে এসব পোশাক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তৈরি পোশাকের বাজার তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যে হাতে প্রতিদিন শহরের ময়লা পরিষ্কার হয়, সেই হাতেই এখন কাপড়ের ওপর ফুটছে নকশা। পরিচিত কাজের পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জনের এই উদ্যোগে হরিজন নারীদের কর্মজীবনে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি অধ্যায়।

Pachattar. tv নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর জানতে লগইন করুনঃwww.pachattar. tv
© All rights reserved © 2021 pachattar.tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com