ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায়ের ছবি।
বরগুনা সদর উপজেলার পূর্ব ধুপতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় ও তার পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, মোটরসাইকেল গতিরোধ করে মারধর ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় আদালতের আশ্রয় নিলে আসামিপক্ষ শিক্ষককে হয়রানি করতে পাল্টা মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় জানান, সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলী এলাকায় তাদের চলাচলের ৬ ফুট প্রস্থের একটি সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা জোরপূর্বক কেটে পিলারের বেজ তৈরি করেন স্থানীয় উজ্জল নামের এক ব্যক্তি। এতে রাস্তায় পানি জমে এবং বালি রেখে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বারবার অনুরোধ করা হলেও আসামিপক্ষ রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি বাড়ি ফেরার পথে উজ্জল ও তার সহযোগীরা রামদা এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে বেধড়ক মারধর করে চশমা ভেঙে ফেলে এবং গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর বরগুনার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (সিআর ১৩৯৬/২০২৬)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি (CID)-কে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় আরও অভিযোগ করেন, আইনি বিচার এড়াতে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে ঘটনার পরদিন (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ত্রাসী উজ্জল তার স্ত্রীকে বাদী বানিয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করান।
শিক্ষকের উপর হামলা ও ছিনতাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা পাল্টা মিথ্যা মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে খারিজ করাসহ মিথ্যা মামলার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ শিক্ষক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ভুক্তভোগী ও স্বজনদের।
Leave a Reply