সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

বদলি নিয়ে অনিশ্চয়তায় মনিকা পারভীন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

ছবি মনিকা পারভীন। 

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের নান্দাইলে বদলি নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সদরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে মনিকা পারভীনকে সদর থেকে নান্দাইলে এবং নান্দাইলের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে সদরে বদলি করা হয়। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে সম্প্রতি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত অভিযোগের পর গত ৩১ আগস্ট কার্যালয়ের কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মো. মুজিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, তদন্ত শেষে ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কী পাওয়া গেছে বা কী সুপারিশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় মনিকা পারভীনের বদলি হওয়ায় শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, বদলির সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘুষ চাওয়া বা গ্রহণের অভিযোগ মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে ছিল না। ‘ঘুষ.সাইট’–এর উদ্যোক্তা শাহেদ শরীফ আহমেদেরও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগের কথা জানা যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ জেলা কার্যালয় থেকে নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হয়েছে। মনিকা পারভীন তিন বছরের অধিক সময় একই কর্মস্থলে ছিলেন। সাধারণত তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই। নান্দাইলের কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার আগে করা বদলি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন নান্দাইলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার, সিসি ক্যামেরা, শিক্ষক বদলি ও সংযুক্তি এবং সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ প্রশাসনিক বিষয় ছিল অভিযোগে।
ফজিলাতুন নেছা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি বেনামি এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি আগে থেকেই সদরে বদলির আবেদন করেছিলেন বলেও জানান।
মনিকা পারভীন বলেন, আদেশে ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট কারণ তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বদলি স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। মেয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে কর্মস্থল পরিবর্তনের পারিবারিক প্রভাবের বিষয়টিও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও তাঁর বদলি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করেছেন।
শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, প্রশাসনিক প্রয়োজন থাকলে বদলি হতেই পারে। তবে সদর শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রমাণিত না হলে সেটিও প্রকাশ করা উচিত।

Pachattar. tv নিউজটি শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home4/pachattar/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর জানতে লগইন করুনঃwww.pachattar. tv
© All rights reserved © 2026 pachattar.tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com