নিহত পুলিশ কর্মকর্তা সাজেদুল হক পরাগ(ছবি সংগৃহীত)।
রাঙামাটি জেলা শহরের তবলছড়ি পোস্ট অফিস কলোনি এলাকা থেকে সাজেদুল হক (পরাগ) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সাজেদুল হক পরাগ রাঙামাটি সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তবলছড়ি পোস্ট অফিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে স্ত্রী সাজেদার সঙ্গে পরাগের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে এবং বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তার স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের দাবি, পারিবারিক কলহের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও হতাশায় ভুগছিলেন পরাগ। জানা যায়, পুলিশে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তিনি মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন। চাকরিজীবনে একাধিকবার বদলি, কর্মস্থলের চাপ, পারিবারিক দূরত্ব এবং নিঃসঙ্গতা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাঙামাটিতে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মরত সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার সময় পরাগসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে সহকর্মীরা জানান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেই ঘটনার মানসিক অভিঘাতও তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন প্রেমময় মানুষ। কয়েক বছর প্রেমের পর প্রিয় মানুষ সাজেদাকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী ছিল বলে পরিচিতজনরা জানিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে,তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” বিশেষ
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্যাতনের বিষয়টি অভিযোগ ও সহকর্মীদের দাবির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশের আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা হলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পেশাদার হবে।
Leave a Reply