ছবি সাইফুল ইসলাম ফকির।
“আগে দেশ, আগে মেহনতি মানুষ, তারপর দল” : সাম্যের ও অসাম্প্রদায়িক ময়মনসিংহ গড়ার অঙ্গীকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠক ও চরাঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফকির। জেএসডির ঐতিহ্যবাহী ‘তারা মার্কা’ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় ও পেশাগত পরিচয়ঃ
সাইফুল ইসলাম ফকির বর্তমানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এবং ময়মনসিংহ জেলা জেএসডির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-স্টুডেন্ট ক্লাব, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সভাপতি।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রাক্তন ব্যাংকার। বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত।
চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ প্রত্যাবর্তন
জন্ম, শিক্ষা ও কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে কাটালেও নাড়ীর টানে ২০১০ সালে তিনি নিজ জন্মভূমি ময়মনসিংহ সদরের রশিদপুর, শম্ভুগঞ্জে স্থায়ীভাবে ফিরে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও জাসদ রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য
সাইফুল ইসলাম ফকিরের পরিবার মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল রাজনীতির এক গৌরবময় ঐতিহ্য বহন করে। পরিবারের তিন ভাই ও এক বোন মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
তার মেঝ ভাই ডা. মাহফুজুর রহমান এবং বড় ভাই ফয়জুর রহমান ফকির মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর পরিবারের সব ভাই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/জেএসডি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
মনোনয়ন প্রতিক্রিয়ায় প্রার্থীর বক্তব্য
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাইফুল ইসলাম ফকির বলেন,
“আমি এবং আমার দলের অঙ্গীকার,আগে দেশ, আগে সাধারণ মেহনতি মানুষ, তারপর দল। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেই ময়মনসিংহ সদর আসনের প্রকৃত মালিক হবে সাধারণ মানুষ।”
তিনি আরো বলেন,
“একাত্তরের রক্তে কেনা এই বাংলাদেশ, জুলাইয়ের রক্তে কেনা এই বাংলাদেশে আর কোনো বৈষম্য, দলান্ধতা ও হীন চক্রান্তকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা গড়ে তুলতে চাই সাম্যের বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ময়মনসিংহ। যেখানে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকশিত হবে।”
ময়মনসিংহ সদরের বাস্তব সংকট তুলে ধরলেন তিনি
নিজ বক্তব্যে ময়মনসিংহ সদরের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কথাও তুলে ধরেন সাইফুল ইসলাম ফকির। তিনি উল্লেখ করেন-
অপরিকল্পিত নগরায়নে শহর আজ সংকীর্ণ গলিতে বন্দী
১১টি রেলক্রসিংয়ে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ যানজট
শিক্ষার নগরী থেকে বেরিয়ে আসা হাজারো শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও কোনো শিল্পাঞ্চল বা কর্মসংস্থান জোন গড়ে না ওঠা।
চরাঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়া।
তরুণ সমাজে মাদকাসক্তি নিয়ে অভিভাবকদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন আমূল পরিবর্তন। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সন্ত্রাস, মাদক, বেকারত্ব ও যানজটমুক্ত একটি শান্তিময় ও উন্নত ময়মনসিংহ সদর গড়ে তুলতে চাই।”
“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘তারা মার্কা’য় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে আপনাদের দেওয়া আমানতের কোনো খেয়ানত হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
Leave a Reply