বরগুনার সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের পূর্ব ধূপতী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক বিধবার বসতবাড়ি, রান্নাঘর ও মুরগির খামারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে।
আগুনের ঘটনায় বাড়িঘর পুড়িয়ে ভস্মীভূত করা ছাড়াও খামারের মুরগি লুটপাট এবং বাধা দেওয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জেরে জখম করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ আকলিমা (৫২) বাদী হয়ে বরগুনার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা (মামলা নং— /২০২৬) দায়ের করেছেন।
মামলার আসামি ও ধারা
মামলায় মো: সজিব (২৫), মো: কামাল (৩৫), মো: শামীম (২৮), মো: ছালত খলিফা (৫০) এবং মো: আউয়াল খলিফাসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৩৫/৪৩৬/৩৭৯/৩০৭/৩২৩/৪২৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যা অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মারাত্মক জখম ও ভাঙচুরের সাথে সম্পৃক্ত।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী আকলিমা বরগুনা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের ১/১২/২০২৩ তারিখের রেজিষ্ট্রিকৃত ৪৮৪৪নং সাফ-কবলা দলিল মূলে জমির মালিক হয়ে পূর্ব ধূপতী গ্রামে ঘরবাড়ি, পুকুর ও মুরগির ফার্ম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার ফার্ম থেকে মুরগি চুরি করাসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাওয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করে।
গত সোমবার বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা প্লাস্টিকের বোতলে কেরোসিন তেল, গ্যাসলাইট এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকলিমার বাড়িতে হামলা চালায়।
লুটপাট: হামলাকারীরা প্রথমে রান্নাঘরে থাকা ৩০টি বড় মুরগি (প্রতিটি আনুমানিক ২ কেজি ওজনের) বস্তায় ভরে লুট করে নিয়ে যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪,০০০ টাকা।
এরপর আসামিরা রান্নাঘর ও মূল বসতঘরের চারদিকের বেড়ায় কেরোসিন তেল ছিটিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। আগুনে ১৫ বান্ডিল টিনের চৌচালা বসতঘর, রান্নাঘর, মুরগির খামার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং ঘরে থাকা হাঁড়ি-পাতিল, প্লেট, লেপ-তোশক ও কাপড়চোপড় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে সর্বমোট ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
বাধা দেওয়ায় হত্যাচেষ্টা ও আহত
আগুনের শব্দ ও চিৎকারে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা আকলিমা ও তার সন্তানরা জেগে ওঠেন। তারা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ঘর থেকে বের হয়ে আসামিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, আসামিরা আকলিমার পুত্র পিন্টু (৩৪)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলাপাথারি পিটিয়ে ও কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
পরে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গুরুতর আহত পিন্টুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভ্যানযোগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিচার প্রার্থনা
আদালতে দাখিলকৃত আরজিতে বাদী আকলিমা তার ও তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা (W/A) জারির আবেদন জানিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের আদেশ দিয়েছেন।
Leave a Reply