দেশ টিভি’র সিঃ সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন ও ম্যান কাইয়ুম সহ এস,এ টিভির সাংবাদিক সাদ্দাম’এর উপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মিরপুরে বসবাসরত সাংবাদিক সচেতন সমাজ।
২৩ মে দুপুরে রাজধানী মিরপুর সেকশন – ২, সনি স্কোয়ারের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য গত ২২ মে শুক্রবার মাদকের বিস্তার’র উপর তথ্য সংগ্রহকালীন সময়ে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পূর্ব নির্ধারিত অফিস এসাইনমেন্ট অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহ কালে দেশ টিভি’র সিনিয়র সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন ও ক্যামেরা ম্যান মনিরুল কাইয়ুম, চালক জয়নাল এবং তাদের সাথে স্থানীয় এস এ টিভির সাংবাদিক সাদ্দাম তথ্য সংগ্রহ করে ফেরার সময় তাদের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালায়, তাদের একটি গ্যারেজে নিয়ে আটক করে। তাদের কাছে থাকা পেনাসনিক p2 350 ক্যামেরা, মেমোরি কার্ড, ডিভাইস সহ নগদ অর্থ নিয়ে যায়। সাংবাদিকদের বহনকরা ( প্রাইভেট কার) রেজিঃ নং ঢাকা মেট্রো – গ- ২৭ – ১০০৪, গাড়ীটিও তারা ভাঙচুর করে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. ফকরুল ইসলাম মজুমদার বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী শামীম সহ ২১ জন ও সহযোগী অজ্ঞাত ৪০ – ৫০ জনের নামে অভিযোগ করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী।
দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও হামলার শিকার সাংবাদিক তুহিন বলেন, ‘সকালে অফিসের নির্ধারিত কাজে (অ্যাসাইনমেন্ট) মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের বিস্তার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় যাই আমরা। আমাদের সাথে এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনও ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের বক্তব্যসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ফিরে আসছিলাম। যে গলিটি শামীমের মাদক ব্যবসার জন্য পরিচিত, সেই গলিতে একটু থেমে দূর থেকে মাদক সিন্ডিকেটের স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য (ফুটেজ) নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে আসার সময় একজন ব্যক্তি কথা বলতে চায়। পরে আমি গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই মাদক ব্যবসায়ী শামীম সহ ৪০ বা ৫০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ সময় হামলাকারীরা আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করাসহ আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর, আমার পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত এবং সাদ্দামের চোখে ছুরিকাঘাত করে। আমাদের সাথে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে আমাদের তুলে শামীমের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও আমাদের ওপর নির্যাতন চালায় তারা। এক পর্যায়ে আমরা হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালে শামীম জানায় পুলিশ আসছে, তারা আসলে মুচলেকা দিয়ে তারপর যেতে হবে। এর কিছু সময় পর প্রথমে পুলিশের একটি দল এবং পরে আরও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন করার পর তুহিন ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে মাদকের বিস্তার নিয়ে প্রতিবেদন করার কথা জানান এবং আমাকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। সেই সুবাদেই আজ আমি দেশ টিভির টিমের সাথে যোগ দেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলার এক পর্যায়ে শামীম পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে গুলি করতে উদ্যত হলে আরেক ব্যক্তি তিন দফায় আমাকে ছুরিকাঘাত করে এবং একটি আঘাত আমার চোখের কোণে লাগে। তাকে নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন করায় আমার ওপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল ।

Leave a Reply