শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক পালাবদলেও বহাল তবিয়তে: হবিগঞ্জ সমবায়ে এক কর্মকর্তা ইসমাইল তালুকদারের একচ্ছত্র আধিপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৫ বার পঠিত

ছবি ইসমাইল তালুকদার। 

হবিগঞ্জ জেলার সমবায় অধিদপ্তরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদ দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ইসমাইল তালুকদারের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও নানা কৌশলে তিনি এসব পদ আঁকড়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলা সভাপতির আশীর্বাদপুষ্ট পরিচয় দিয়ে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এ পদে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তার থাকার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

হবিগঞ্জ জেলার মাস্টার কোয়ার্টারের ৪৯ শতক জায়গার ওপর স্থাপিত কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ভবনের পেছনের কক্ষ দুটি দুই পরিবারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জামানত নেওয়া হলেও হিসাব-নিকাশে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়গুলো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল তালুকদারের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ শাখায়ও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকায় সমিতির আওতাধীন কয়েকটি দোকানঘর থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের ভাড়া আদায় করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক যুগ ধরে কাগজে-কলমে ভাড়া বৃদ্ধি না দেখিয়ে আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন চলছে।

মাধবপুর উপজেলায় কর্মরত থাকলেও শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ইসমাইল তালুকদার। সাধারণত শূন্য পদে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান থাকলেও বাহুবলে দূরবর্তী মাধবপুরের কর্মকর্তা হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমবায় খাতের পাশাপাশি মাধবপুরে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েও বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের গুঞ্জন রয়েছে।

ইসমাইল তালুকদারের বিরুদ্ধে নিশান এনজিও’র প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ায় সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। যদিও এ বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  ইসমাইল তালুকদার ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, ৪টি পদে দায়িত্ব আমাকে কর্তৃপক্ষ দিয়েছে,  দোকান ঘর নিয়ে হারুন অর রশীদের সাথে আমাদের সমবায় মামলা রয়েছে, আদালত তাকে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার পরও তিনি দোকান ঘরটি হস্তান্তর করেন নি বলেও উল্লেখ করেন। এক ব্যক্তি একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করতে কি পারেন এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,  কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ৪ পদের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রনি মিয়া বিষয়টি নিয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে মিটিংয়ে থাকার কথা জানান।

 

অন্যদিকে সিলেট বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যোগ্য কর্মকর্তাকেই ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাহুবল উপজেলায় পার্শ্ববর্তী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব না দিয়ে ইসমাইল তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন একাধিক অভিযোগে সমবায় সংশ্লিষ্ট মহল ও সচেতন নাগরিকরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তার একাধিক লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

Pachattar. tv নিউজটি শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home4/pachattar/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর জানতে লগইন করুনঃwww.pachattar. tv
© All rights reserved © 2026 pachattar.tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com