সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন

বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় মা ও মেয়েকে হত্যার করে  মাটিচাপা দেয় পরকীয়া প্রেমিক উজ্জ্বল 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত

হত্যাকারী উজ্জ্বলের ছবি। 
পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় শ্বাসরোধ করে জাহানারাকে হত্যার পর সাথে থাকা তিন বছরের শিশু কন্যা সামিয়া কান্না করায় একই ভাবে হত্যা করে  লাশ গুম করতে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেয়  মা ও মেয়ের লাশ।

আটকের পর পুলিশকে এমনি তথ্য দিয়েছে হত্যাকারী  উজ্জ্বল খান।

ঘাতক উজ্জ্বল খান (৩৮) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকারটিলা খাসেরকোল গ্রামের মৃত শাহজাহান খান এর ছেলে।
রবিবার দুপুরে কোতয়ালী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক প্রেমিক আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম জানান, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত জাহানারার বাবা মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক আবুল বাসার মোল্লা প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৬ মে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থেকে উজ্জ্বলকে আটক করে। হত্যার পর মাটিচাপা দিতে ব্যবহৃত কোদালটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম(৩০) ও হত্যাকারী উজ্জ্বল রাজধানীর আমিন বাজারে একটি ইট ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রায় ৩ বছর ধরে চলা প্রেমের এক পর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয় জাহানারা।
গত ৪ মে জাহানারাকে মোবাইল ফোনে জামতলা বাজারে আসতে বলে উজ্জ্বল। বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষে জাহানারা তার শিশু কন্যা সামিয়াকে নিয়ে জামতলা বাজারে আসে। পরে উজ্জ্বল তাদেরকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় সামচুল মোল্লার নির্জন পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রেম ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উজ্জ্বল উত্তেজিত হয়ে জাহানারার বুকে সজোরে ঘুষি মারলে অজ্ঞান হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে জাহানারা। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে উজ্জ্বল। এ সময় শিশু সামিয়া কান্না শুরু করলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। পরে ঘটনাস্থলের পাশের উজ্জ্বল এর নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুর পাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ পুঁতে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখে। গভীর রাত পর্যন্ত উজ্জ্বল একাই নির্মম এই কাজ করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে সে।

নিহত জাহানারা মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা ইউনিয়নের নারান তেঁওতা গ্রামের মো. লালন মোল্লার মেয়ে ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কর্ণসোনা গ্রামের আমজাদ শেখ এর স্ত্রী। হত্যার শিকার শিশু সামিয়া, আমজাদ- জাহানারা দম্পতির একমাত্র মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত জাহানার বাবা লালন মোল্লা তার মেয়ে ও নাতী হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেছে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য গত ১৪ মে বিকেলে ১১ দিন নিখোঁজ’র পর  ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার পুকুর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা ও তার শিশু কন্যা সামিয়া’র (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Pachattar. tv নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর জানতে লগইন করুনঃwww.pachattar. tv
© All rights reserved © 2021 pachattar.tv
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com