উদ্দারকৃত মালামাল।
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ৬ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত হলোঃ এম এ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মোঃ কাউসার হোসেন (২৪), মোঃ আব্দুল করিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ১৩/০৫/২০২৬ তারিখে নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন ও বিকাশ-নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করা হয়। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছিল।
তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তুরাগ থানার রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ চীনা নাগরিককে আটক করে ডিবি।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল( ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট মেশিন, প্রায় ২৮০টি বিভিন্ন অপারেটরের সিমকার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও এনআইডি এবং একটি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থ পাচার চক্রের সদস্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যের নামে নিবন্ধিত এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে সেগুলো জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইসে ব্যবহার করে শতাধিক সিম একসঙ্গে সক্রিয় রাখা হতো। এসব সিমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার টাকা ও প্রতারণার অর্থ লেনদেন করা হতো।
ডিবির দাবি, চক্রটি নিজস্ব জুয়ার পোর্টাল পরিচালনার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা বিদেশে, বিশেষ করে চীনে পাচার করছিল।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Leave a Reply