মীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ছেলে ও বাবা।
বগুড়ায় যৌতুকের দাবিতে মিম খাতুন নামের এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান , ২০২৩ সালের মার্চে সোহেল রানা ও মিম খাতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিলো।
এরপর বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুনরায় মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতে মিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্যাতনের চাপে পড়ে একপর্যায়ে মিম বাবার বাড়িতে চলে যেতে বাদ্য হয়। পরে পারিবারিকভাবে তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। মিমের স্বামী সোহেল রানা তার শাশুড়ি সোলেনা বেগমকে ২ আগস্ট রাতে ফোন করে জানান, মিম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে মিমের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে মিমের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় মিমের বাবা বাদী হয়ে গাবতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার পর থেকেই সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব। মামলায় পলাতক প্রধান আসামি স্বামী সোহেল রানা (৩২) ও শ্বশুর জামাল উদ্দিনকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২।
জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকা থেকে সোমবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তার বাবা জামাল উদ্দিন গাবতলী উপজেলার বাওইটোনা গ্রামের বাসিন্দা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মিমের বাবা বাদী হয়ে গাবতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকা থেকে ছেলে সোহেল রানা ও বাবা জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের গাবতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply