সংবাদ সম্মেলনের ছবি।
বর্তমান সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে একটি কুচক্রী মহল রাতের আধাঁরে ইট-বালু ফেলে স্থাপনা নির্মাণ, ইটের দেয়াল দিয়ে বাউন্ডারি তোলাসহ সরকারি (জাগৃক)’র জায়গায় সাইনবোর্ড বসিয়ে দখলের চেষ্টা করা। জমি দখলের পাশাপাশি নতুন করে প্লট মালিকদের কাছে স্থাপনা নির্মাণের সময় শুরু হয়েছে চাঁদাবাজি। কেউ এসকল চাঁদাবজদের চাঁদা দিতে না চাইলে দলবল নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় চাঁদাবাজের এই সিন্ডিকেট। এমনকি রূপনগর থানা থেকে পুলিশ নিয়ে গিয়েও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হুমকি-ধমকি ও নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তা প্রচারও হয়েছে গনমাধ্যমে, তার পরেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন পুলিশ এমন প্রশ্নই এখন সচেতন নাগরিক মহলে ।
এসকল ভঙ্কর গুরুতর অভিযোগ এনে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি। শনিবার ২২’শে আগস্ট বেলা ১২’টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকার দুয়ারীপাড়া ১নং রোডের ২৩/২৫ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ক্ষতিগ্রস্ত প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুজ্জামান সহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল সদস্যরা।
ভুক্তভুগিদের অভিযোগ মতে, চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি প্লটের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। এর বাইরেও দুয়ারীপাড়া খ-ব্লকের পূর্ব দিকে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা অবরাদ্দকৃত জায়গা দখলে নিয়েছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। দখলকৃত জমিতে রিকশার গ্যারেজ, বস্তিসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে দখলদার চক্রটি। আবার প্লট মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া কিছু প্লট দখলে নিয়েছে চক্রটি। পরিচিত এ দখলদারদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে জাগৃকের ঢাকা উপবিভাগ-১ থেকে রূপনগর থানায় কয়েক ডজন জিডিও করেছে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি ও উভয় পক্ষ এত অভিযোগ করার পরেও প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভুগিরা। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পুরোনো দখলদাররা এলাকা ছেড়ে গেলেও দখলমুক্ত হয়নি এসব প্লট। নতুন গ্রুপ এখন এসব প্লট দখলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা দখলের পাশাপাশি সরকারি প্লট ঘিরে চালাচ্ছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। প্লট মালিকদের কেউ নিজের প্লটে ভবন নির্মাণ করতে গেলে একটি গোষ্ঠীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। চাহিদামাফিক চাঁদা না দিলে দিনে-দুপুরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে বন্ধ করে দেওয়া হয় নির্মাণকাজ।
জানা গেছে, চিহ্নিত দখলবাজদের মধ্যে রয়েছে জামাল উদ্দিন, শিপু মোল্লা, আব্দুল হক, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন শান্ত, মো. সিয়াব উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (নজু), আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মোহাম্মদ মামুন, জামাল ওরফে লাম্বা জামাল, আইজল, এরশাদ খোকন, নেতা কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক, দুলাল, মো. স্বপন, মো. সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী (জামাল), মো. বাশার, শফিক গং, জহিরুল ইসলাম গং, সাইফুল ইসলাম গং, জসিম (জামাই জসিম) গং, ইউসুফ, সেলিম গং, জান্নাতুল ফেরদোস সুমি, শারমিন আক্তার, শিল্পী ওরফে খালিদা, মো. দুলার, এরশাদ খোকন গং ও তরিকুল ইসলাম মইন গং। এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের প্রায় সবাই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পরিচয় দেন। তবে অনেকেই বর্তমান কোন কমিটিতে নেই এক সময়ে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা, দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করেন দলের পরিচয়ে নানা অপকর্ম করছেন। দখলদারদের আরেকটি অংশ হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ কৃত স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
এর ফলে তাদের এহেন কর্মকান্ডে বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন সংবাদ সম্মেলন আয়োজন কারিরা। অপরদিকে একই দিন দুপুরে মানববন্ধন করেছে আইনুদ্দিন হায়দার ফয়জুননেছা ওয়াকফ্ এস্টেটের ৪৮ একর জমি আদালত কর্তৃক (জাগৃক) সহ বিবাদীদের বিরুদ্ধে।
Leave a Reply