সাভার হেমায়েতপুর থেকে বিস্ফোরকসহ আটক আরিফ।
ওই বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে বাড়িটি ঘিরে রাখার আগেই মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫টি বিস্ফোরকসহ আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে করে ঐ এলাকা ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে, থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আগ থেকেই আটক আরিফ হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করছিলেন। পরে আরিফ সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বাস থেকে নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছে তল্লাশি করে ৫টি বিস্ফোরক, একটি ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ৯টি বিস্ফোরকসহ বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চালানোর পূর্বে আটককৃত আরিফের তথ্যের ভিত্তিতে মুল হোতা নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’ কে গ্রেফতারে সাভারের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুন্সী শাহাবুদ্দীন বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুই জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নাম আরিফ ও মূলহোতা বোমারু মামুন।
সাভার মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ একজনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিক ।
সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর কারণ অভিযানে বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply